MAKE-SURE-THE-JOB-YOU-ARE-JOINING-HAS-THE-POTENTIAL-IN-FUTURE2
0

কেমন হওয়া উচিত আপনার সিভি

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

সিভি ও জব ইন্টাভিউ সম্পর্কে লেখার জন্য অনেক অনুরোধ আসে। সে ‘‘অনেক’’ আসলে দেশের বিশাল বেকার জনগোষ্ঠির একেবারেই ক্ষুদ্র একটি অংশ। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দেখি সিভি হলো কপি পেস্ট করা।
অবজেকটিভ, ফরম্যাট আর ধারাবাহিকতার ক্ষেত্রে দেশে কয়েকটা ফরম্যাট আছে। সেগুলো সবাই কপি পেষ্ট করে। বিশেষ করে কম্পিউটার কম্পোজের দোকানে একটা সিভি দেখলে মোটামোটি সে দোকানের সব
কাস্টমার সেটাই কপি করে। আর বন্ধু বান্ধবদের কাছ থেকে কপি করাতো আছেই। যাদের আরেকটু ভালো বুদ্ধি আছে তারা ইন্টারনেট থেকে কপি করে। কিন্তু আমরা একবারও ভাবিনা যাকে কপি করছি তার সাথে কি আদৌ আমার মিল আছে? এই সিভিতে কি তার চাকরীদাতা খুশি হয়েছিলো? অথবা আমার জব সেক্টরের সাথে কি এটা যায়? অথবা ঠিক একই রকম দেখতে যদি আরেকটা সিভি নিয়োগ কর্তার হাতে যদি পড়ে তাহলে ব্যাপারটা কি হবে?

অনুকরণ প্রিয় বাঙালীর এই অনুকরণপ্রিয়তা বজায় রাখতে গিয়ে দেখা যায় কখনো কখনো মারত্মক ভুল করে বসে। যেমন যার সিভি থেকে কপি করেছে তার জন্মতারিখটা রয়ে গেছে। তার বয়স ৪৫ আপনার
বয়স ২২ বিষয়টা কেমন হলো? যাই হোক আমরা আজ সিভির গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আলোচনা করবো

WORK-ENVIRONMENT-IS-MANDATORY-TO-WORK-BETTER3

সিভি হবে ইউনিক:

হ্যাঁ আপনার সিভি আপনি বানাবেন এবং সেটা হবে ইউনিক। আপনি আপনার কোন বিষয়টি সবার আগে রাখতে চান সেটি আপনার সিদ্ধান্ত। এমনকি প্রতিটি নিয়োগকর্তার জব ডেসক্রিপশন অনুসারে আলাদা আলাদা সিভি তৈরী করবেন। যেন সেটা সে কোম্পানী এবং জবের সাথে যায়। আর বিশেষ করে অবজেকটিভটা সবাই কপি করে থাকেন। আমি জানি না এটা কেন? আপনি নিজের সম্পর্কে বলতে চান আর সেটা
আরেকজনের সম্পর্কে লেখা কপি থেকে। এর মাধ্যমে আপনি শুরুতেই হয়তো নিজের বিপক্ষে চলে গেলেন আর নয়তো নিজের সম্পর্কে মিথ্যে বললেন। সূতরাং আপনি যা, তাই লিখুন।

সিভিটা অন্তত স্টাডি করুন:
কখনো কখনো সময়ের অভাবে আপনি চাকরীর ইন্টারভিউতে অনেক কিছু শিখে যেতে না পারেন অন্তত সিভিটা আগাগোড়া পড়ে নিন। নিজের সম্পর্কে যা লিখেছেন ঠিক আছে কিনা, দেখে নিন। ভুল ত্রুটিতো
দেখবেনই। সিভি থেকে কি কি প্রশ্ন হতে পারে সেটার একটা ট্রায়াল দিয়ে নিতে ভুলবেন না। আর অযথা সিভির সাইজ বড় করবেন না। নিজে ইংরেজী না জানলে ‘‘ইংলিশ গুড’’ লিখে হাসির পাত্র হওয়ার কোনো মানে নেই। সিভির উপর একটা ইন্টারভিউ প্রাকটিস করুন।

কভার লেটার
অনেকে সিভি চাইলে শুধু সিভি দিয়ে দেন। পরে কোম্পানীতে সিভি জমা হওয়ার পর হাজারো সিভির ভিড়ে সেটি হারিয়ে যায়। এজন্য আপনি কোম্পানী ও আপনার আবেদিত পদ সম্পর্কে জেনে নিয়ে একটি কভার

লেটার সংযুক্ত করুন। আর কিছু না হোক অন্তত খামের উপর অথবা সিভির উপর প্রথম ভাঁজে মানে এমন জায়গায় লিখবেন যেখাসে সিভিকে তিন ভাঁজ করলেও প্রথম ভাঁজে পদবি সংক্রান্ত তথ্যটি থাকে। মানে
আপনি কোন বিভাগে কোন পদবির জন্য আবেদন করছেন সেটা অন্তত নোট দিন। সেটা আলাদা ছোট একটা কাগজে দিতে পারেন। পিনআপ করার সময় একটা সুন্দর করে কাটা রঙীন কাগজ ব্যবহার করে সেখানেও লিখতে পারেন।

ধারাবাহিকতা চিন্তা করুন
আপনি যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছেন তাদের কাছে কোনটি বেশী গুরুত্বপূর্ণ। আপনার শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, ট্রেনিং নাকি সামাজিক কাজ। যেটা তারা বেশী গুরুত্ব দেয় সেটা সামনে নিয়ে আসুন। আর যদি সেটা
জানা না থাকে। আপনার যে দিকটা শক্তিশালী সেটা আগে নিয়ে আসুন। যদি আপনার ভালো ফলাফল হয় তাহলে শিক্ষা, যদি অভিজ্ঞতা বেশী থাকে তবে সেটা।

বাহ্যিক সৌন্দর্য
জীবনবৃত্তান্তের ক্ষেত্রে এর সৌন্দর্য একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুন্দর ফন্ট, খুব বেশী বড় কিংবা ছোট নয়, প্রয়োজনীয় মার্জিন, লাইন স্পেস, খুব বেশী বড় নয়, হেড লাইন ও সাবহেড, প্রয়োজনে আন্ডার লাইন, বোল্ড,
ইটালিক এবং সিম্বল ব্যবহার করুন। তবে যেন হিজিবিজি না হয়। ভালো কাগজ আর ভালো প্রিন্ট এর কথা বলাই বাহুল্য।

ভাবছেন নিজের সিভি নিজে বানাবো এতই সহজ? তারচেয়ে কপি করা সহজ। একটু কষ্ট হলেও একটা ইউনিক সিভি বানান। প্রথম দেখায় যেটাকে নতুন বা আলাদা মনে হয়। তারপর ইন্টারভিউ বোর্ডে নিয়োগকর্তার চোখে আপনাকে আলাদা করে দেখার প্রবণতাটা দেখুন আপনি বুঝবেন কাজটা ঠিক হলো কিনা? অনেকে একটু ডিজাইন করে সিভি বানান কিন্তু তথ্যগুলো সে গৎবাঁধা ফলে ডিজাইনের কষ্টটা বিফলে যায় কথাটা খেয়াল করুন।

Share this to your friend

Leave us a comment