আপনার সিভি হোক আপনার প্রেজেন্টার

careerPath-illustration
0

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আমরা যা করি তা হলেf, কারো দেখে যেনতেনভাবে একটি সিভি বানাই। তারপর মনে মনে ভাবি বাদবাকী কথা সাক্ষাৎকারে বলে দেব। ইন্টারভিউ ভালো হলেতো চাকরি হবে। কিন্তু এটা

আমরা ভুলে যাই যে, ইন্টারভিউতে আমাকে না ডাকলে আমি কিভাবে তাদের বোঝাবো যে ওই পদের জন্য আমিও একজন যোগ্য প্রার্থী আছি। তাই আপনার সিভিটা তৈরী করতে হবে ‘‘সেইরকম’’ করে

যাতে আপনার সিভি দেখে আপনার প্রতি একটা উন্নত ধারনার জন্ম হয় এবং সে ধারণা থেকে আপনাকে কল করে। আপনার যদি সত্যিকার যোগ্যতা থাকে আর আপনি যদি সেটা সিভিতে তুলে ধরতে

পারেন তাহলে আপনার যোগ্যতা আর সিভি মিলিয়ে আপনার ৫০ভাগের বেশী সম্ভাবনা থাকবে চাকরীটি পাওয়ার। তাই এই ৫০ ভাগ সম্ভাবনা যদি আপনি আগেই ঠিক করতে পারেন আর বাকীটা পরীক্ষা

কিংবা ইন্টারভিউর মাধ্যমে করলে আপনি অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন। আসুন সিভি তৈরীর বিষয়গুলো আলাপ করা যাক।

 

বাহ্যিক মান

কথায় বলে আগে দর্শনধারী তারপর গুনবিচারী। সিভি অবশ্যই ভালো অফসেট পেপারে প্রিন্ট করবেন। এফোর কাগজে চারদিকে এক ইঞ্ছি করে মার্জিন রাখবেন। প্রয়োজনে ডান দিকে একটু কম করে বাম

দিকে বাড়িয়ে দিতে পারেন। হতে পারে .৭৫ ও ১.২৫ ইঞ্চি। ফণ্ট সাইজ ১২ হলে ভালো যদি সুন্দর সেটিং দিতে পারেন ১১ মানিয়ে যেতে পারে। লাইন স্পেস ১.৫ থাকা ভালো। প্রত্যেক প্যারায় চোখে

পড়ার মতো গ্যাপ আর হেডলাইন গুলো বোল্ড করে হাই লাইট করতে পারেন। এক পৃষ্ঠার সিভি বৈশ্বিক বাজারে বেশী চলে। ২ পৃষ্ঠা হলে ভালো। তবে ৩ পৃষ্ঠার বেশী নয়। কখনোই শেষ পাতায় স্বাক্ষর ও

তারিখ দিতে ভুলবেন না। একটি হ্যান্ডসাম ফাইল আগেই কিনে রাখবেন যাতে তার মধ্যে করে আপনি সিভি নিয়ে যেতে পারেন।

 

নতুনত্ব ও বিষয় বিন্যাস

সিভি এমনভাবে তৈরী করবেন যেন আপনার সিভি ফরম্যাটে তারা নতুন কিছু খুঁজে পায়। বিশেষ করে অবজেকটিভ এবং স্টেটমেন্ট এমনভাবে লিখবেন যেন সেটা কপি না হয় এবং সেটা পড়ে মনে হয় আপনি

যে কোম্পানীতে সিভি দিয়েছেন তাদের কথা মাথায় রেখে সেটা লিখেছেন। কোনটি আগে দেবেন কোনটি পরে দেবেন সেটা নির্ভর করছে যে প্রতিষ্ঠানে চাকরীর জন্য আবেদন করেছেন তারা কোন বিষয়কে

গুরুত্ব দেয়, তার উপর। হতে পারে অভিজ্ঞতা, হতে পারে ট্রেনিং হতে এক্সট্রা ক্যারিকুলার এক্টিভিটিস। তবে শুরুতে আপনার নাম ফোন নাম্বার ইমেইল ও ঠিকানা দিতে ভুলবেন না। যেমন সিভির প্রথম

পৃষ্ঠায় ডানপাশে যদি ছবি থাকে তাহলে বামপাশে কন্টাক্ট ইনফরমেশন থাকতে পারে। আরেকটা কথা বলি যেটা শুধু বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য। যদি মনে হয় এই কোম্পানী বিশেষ জেলার লোককে প্রাধান্য দেয়।

আমি আপনি সে জেলার লোক তাহলে কন্টাক্ট এড্রেস এর সাথে স্খায়ী ঠিকানাও দিতে পারেন। তবে এটা দেখতে ভালো দেখাবেনা। এটা শুধু এক্সেপশনাল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কারণ আমাদের দেশে অনেক কিছুই

স্বাভাবিক নিয়মে হয়না।

 

 

অভিজ্ঞতা

অভিজ্ঞতার জায়গায় আমরা বেশীরভাগ লোক অন্য সিভি থেকে একটা ফরম্যাট কপি করি। আপনি যদি নিজে একটা সুন্দর ফরম্যাট দিতে না পারেন তাহলে কপি করতেই পারেন। তবে এক্ষেত্রে কিছু বিষয়

খেয়াল রাখবেন। আপনি সর্বশেষ যে ১/২/৩ নং কোম্পানীতে কাজ করেছেন এগুলোর ডিটেইল দেয়া ভালো। যেমন সেখানে আপনার জব ডেসক্রিপশন কি ছিলো, আপনার এচিভমেন্ট কি ছিলো, এবং

কোম্পানীর একজন কন্টাক্ট পারসন এর নাম পদবি ফোন নাম্বার থাকতে পারে। যাতে আপনার তথ্য যাচাই করা যায়। এমনকি আপনি কেন জব চেঞ্জ করেছেন সেটাও সিভিতে লিখতে পারেন। আর কবে

শুরু করে কবে শেষ করেছেন সেটাতো থাকবেই। এই তালিকা দেখে যেন মনে না হয় আপনি ঘন ঘন কাজ বদল করেন।

 

ট্রেনিং ওয়ার্কশপ ও প্রফেশানাল ডিগ্রি

আপনি যদি বিভিন্ন ট্রেনিং গ্রহণ করেন। সেগুলো উল্লেখ করুন। তবে আপনি যে পদের জন্য আবেদন করেছেন সে পদের সাথে যায় এমন বিষয়গুলো আগে রাখুন। আর ট্রেনিংটি কতদিনের ছিলো, কত সালে

হয়েছিলো আর কারা আয়োজক ছিলো এই বিষয় উল্লেখ করতে ভুলবেন না। এগুলো কম কথায় সংক্ষেপে লিখবেন। আপনি অবশ্যই এমন একটা ফরম্যাট বের করবেন যাতে আপনি অল্পতে অনেক তথ্য দিতে

পারেন।

 

শিক্ষাগত যোগ্যতা

শিক্ষাগত যোগ্যতা লিখার জন্য আমরা অনেকেই পুরনো ফরম্যাট ব্যবহার করি। এই ফরম্যাট পরিবর্তন  করে একটু নতুন কিছু দেখান। ইন্টারনেটে সার্চ দিলে মডেল সিভি বা স্যাম্পল সিভি লিখে খুঁজলে অনেক

পাবেন। ২০টা সিভি দেখুন একটা মানসম্পন্ন সিভি লেখার আইডিয়া আপনার মাথায় চলে আসবে। আপনার ডিগ্রি, সাল, বিষয়, রেজাল্ট এর সাথে মার্ক বা সিজিপিএ উল্লেখ করতে পারেন। সাথে সর্বশেষ

ডিগ্রিতে আপনার কি কি সাবেজেক্ট কয়টা সেমিস্টার ছিলো এগুলো দিতে পারেন কোম্পানী বুঝে যদি মনে কোম্পানী এই বিষয়গুলো দেখে। দিতে পারেন আপনার কোন বিষয় মেজর ছিলো সেটাও বিশেষ করে

যদি আপনি যে জবের জন্য আবেদন করছেন সেটা আপনার মেজর সাবজেক্ট রিলেটেড হয়। কারণ কিছু বিষয় আপনাকে আগেই পরিষ্কার করতে হবে যাতে করে আপনাকে ডাকার সম্ভাবনা বাড়ে।

 

এক্সট্রা কিউরিকুলার একটিভিটিস

আপনি অবশ্যই আপনার এক্সট্রা কিউরিকুলার একটিভিটিস গুলো আলাদা করে তুলে ধরবেন। যদি এডমিন লেবেল এর জব হয় আপনি আপনার স্কাউটিং কিংবা বিএনসিসি করা থাকলে সেটা তুলে ধরুন। যদি

কমিউনিকেশান বা মার্কেটিং জব হয় তাহলে আপনার সামাজিক কাজ, বিতর্ক এ ধরনের কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলে সেটা প্রকাশ করুন। এভাবে আপনার সার্ভিসকে ডেভলপ করে এমন বিষয়গুলো

হাইলাইট করুন। কিছু কিছু বিষয় একটু সুন্দরভাবে উপস্থাপন করুন বিশেষ করে কোম্পানী যদি সামাজিক কাজকে গুরুত্ব দেয়। আপনি দেশভ্রমণ করেন এটা না লিখে কয়টা দেশ বা কয়টা জেলা ভ্রমণ

করেছেন উল্লেখ করুন। আপনি নিয়মিত রক্ত দেন সেটা বলার চেয়ে আপনি এ যাবত কতবার রক্ত দিয়েছেন সেটা লিখুন।

 

ব্যক্তিগত তথ্যে ক্ষেত্রে

ব্যক্তিগত তথ্যের ক্ষেত্রে নাম জন্মতারিখ এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয়তার পরে রয়েছে ধর্ম। তবে বিদেশে মা বাবার নাম, ধর্ম, জেলা এগুলো কেউ উল্লেখ করেনা। ভালোমানের কোম্পানী হলে আপনিও এখানে

ব্যতিক্রমভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারেন। আজকাল রক্তের গ্রুপ, পাসপোর্ট নাম্বার ও ন্যাশনাল আইডি কার্ড নাম্বার উল্লেখ করা ভালো। এতে আপনার ব্যাপারে তাদের আস্থা বাড়বে। সুস্থ্যতা ফিটনেস

এসব জিনিস যদি ফ্যাক্ট হয় আপনি আপনার ওজন উচ্চতা ও বুকের মাপ (ছেলেদের ক্ষেত্রে)উল্লেখ করতে পারেন। ফ্যাক্ট না হলেও করতে পারেন তাতে আপনি আপনার ব্যক্তিগত সব তথ্য তুলে ধরেছেন

মনে হবে। আমাদের দেশে অনেকের ২টা জন্ম তারিখ একটা সত্যিকার একটা কাগজে লেখা। দুটো জন্মতারিখ উল্লেখ করা সততার পরিচয়, তবে এটা সবক্ষেত্রে সুফল বয়ে নাও আনতে পারে। যেমন

আপনি এক জায়গায় সিভি দিলেন। সেখানে বয়সসীমা ৩২। এখন আপনার প্রকৃত জন্মতারিখ হিসেব করলে সেটা ৩২কে ক্রস করে তখন হিতে বিপরীত হতে পারে।

 

এ্যাচিভমেন্ট এন্ড এওয়ার্ড

যদি আপনার চাকরী পাওয়ার জন্য আপনার ছাত্র ও কর্মজীবনের খেলাধুলা কিংবা সাহিত্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরষ্কার সহায়ক হতে পারে বলে মনে হয় তাহলে এগুলো আলাদা হেডে নিয়ে আসতে

পারেন। তবে কাজে আসতে পারে কর্মজীবনের কোনো এচিভমেন্ট। বিশেষ করে আপনি যদি উপস্থিতি কিংবা পারফরম্যন্স এর জন্য কোনো স্বীকৃতি পান কিংবা এম্পলয়ী অব দ্যা ইয়ার জাতীয় কোনো পুরষ্কার

পান। এসব পুরষ্কার কারা দিয়েছে কেন দিয়েছে সেটা উল্লেখ করতে পারেন কলেবরের দিকে খেয়াল করে।

 

রেফারেন্স

শুধু বড়ো মানুষের রেফারেন্স দিলেই হবে না। সে মানুষটি আপনাকে যেন মোটামোটি চেনে। আপনার বাড়ী কোথায়? আপনি এর আগে কোথায় জব করেছেন? এই ২/৩টি তথ্য অন্তত তিনি যেন জানেন।

আরো বেশী জানলেতো কথাই নেই। ২ জন রেফারেন্স এর একজন আত্মীয় একজন অনাত্মীয় হলে ভালো। কারণ অনেক সময় কিছু কোম্পানী চায়- আত্মীয় হোক, যাতে আপনি পরে কোনো সমস্যা করলে তার

সে ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করতে পারে। আবার অনেক কোম্পানী চায় আত্মীয় না হোক। কারণ আত্মীয় না হলে তারা সে ব্যক্তির কাছে আপনার ব্যাপারে নিরপেক্ষ তথ্য আশা করে। তাই ২জন ২

টাইপের হলে ভালো। যাই চাক না কেন আর সমস্যা নেই। আর যাকে রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করছেন তিনি যেন বিষয়টি জানেন সম্ভব হলে কোথাও ইন্টারভিউ দিয়ে বিষটি তাকে জানিয়ে রাখুন যে, অমুক

কোম্পানী থেকে আপনার ব্যাপারে ফোন আসতে পারে। আপনি একটা কোম্পানীর ১০ জন্ মানুষকে ১০ কপি সিভি দিলেও। পরে চাকরীর ব্যাপারে যখন দেখা

করতে যাবেন তখন সাথে করে এক বা একাধিক কপি ছবিসহ সিভি নিয়ে যাবেন। আগামীতে উদাহরণসহ এই বিষয়গুলো বিভিন্ন লেখায় তুলে ধরবো বলে আশা রাখছি। ততদিন ভালো থাকুন।

Share this to your friend

Leave us a comment