ইন্টারভিউ ম্যানারস

interview manner1
0

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

চাকুরীর ইন্টারভিউর জন্য আমাদের প্রস্তুতির শেষ নেই। রাতজেগে পড়াশোনা, এর ওর কাছে ফোন করে খবর নেয়া, কোম্পানী সম্পর্কে জানা, চাকরীটা হবে কিনা সেটা নিয়ে টেনশন আরো কতকি? কিন্তু ইন্টারভিউর ম্যানারগুলো আমরা একেবারেই ভুলে যাই। আপনার ইন্টারভিউ ভালো হলো, সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলেন কিন্তু কোম্পানীর লোকেরা মনে করলো আপনি যথেষ্ঠ ভদ্রোচিত নয়, আপনার ম্যানারস জ্ঞান নেই অথবা আপনি সব সময় একটা ভাব নিয়ে থাকেন। এ ধরনের পরিস্থিতি আপনার অন্যান্য যোগ্যতাকে খাটো করে দিতে পারে। আসুন একবার চোখ বুলিয়ে নিই জরুরী বিষয়গুলোতে।

পোশাক:

সুন্দর, পরিপাটি, পরিচ্ছন্ন পোশাক পরুন। ক্যাজুয়াল পোশাকে যান। শার্টের জন্য সাদার মধ্যে আর প্যান্টও ‍ও জুতোর জন্য কালের দিকে রং বাছাই করন। ছেলেরা শার্ট ইন করুন এবং ফ্রেস সু-পরুন। মেয়েরা শাড়ি থ্রিপিস বা নিজের স্টাটাস অনুযায়ী পোশাক পরুন তবে সেটা যেন মার্জিত হয়। মার্জিত পোষাক কিভাবে বুঝবেন? চোখ বন্ধ করে নিজেকে সে পোশাকে ভাবুক সে পোশাক নিয়ে আপনি কনফিউজড। তারপর ভাবুন ১০ জনের মধ্যে একজনও কি আপনাকে ভাবতে পারে যে এই পোশাক ঠিক নয়।

ইন্টারভিউরুমে প্রবেশ:

খুব সাবলিলভাবে ইন্টারভিউরুমে প্রবেশ করুন। মুখে হাসি লাগিয়ে রাখুন। আপনার হাসির বিনিময়ে অফিসে বসে থাকা কর্তারা যদি বেশ গম্ভীরভাবে বসে থাকে তাতেও আপনি হাসিমুখে আত্মবিশ্বাসের সহিত কথা বলুন। সালাম বিনিময় করুন। মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী হলে গুডমর্নিংম গুড আফটারনুন বলুন। সালাম কিংবা গুড মর্নিং যেকোনোটাতে আপনার উচ্চারণে কোন সমস্যা থাকলে ঠিক করে নিন। হাঁটার সময় যদি আপনার জুতার শব্দ হয় এই অভ্যাসটি আজই বদলে নিন।

বসা:

অনুমতি নিয়ে চেয়ার বসুন। সোজা হয়ে বসুন। চেয়ার ধরে কোনো শব্দ করবেন না। পা নাড়াচাড়া করবেন না। পা সোজা করে টেবিলের অন্যপাশে বসা কারো পায়ে লাগাবেন না। জুতা দিয়ে কোন শব্দ করবেন না। পা মেঝেতে ঘষাঘষি করবেন না। এই অভ্যাসগুলো যদি আপনার থাকে- বাসায় ডামি ইন্টারভিউ প্রাকটিস করে ঠিক করে নিন।

প্রশ্নের উত্তর দেয়া:

প্রশ্নটি ভালোভাবে বুঝুন। প্রশ্নের মধ্যে কোনো মিসিং লিংক থাকলে তা ভালো করে বুঝে নিন। তারপর জবাব দিন। খুব বেশী সময় নিয়ে জবাব দেয়া ঠিক নয়। যে প্রশ্নের উত্তর জানে না সরাসরি না বলুন এবং সরি বলুন। সম্ভাব্য উত্তর দিয়ে লটারীর চান্স নেয়ার চেষ্টা করে নিজেকে ছোট করবেন না। এমন ভাব শুধু বোকারাই দেখায় যে, প্রশ্নের উত্তর না জেনেও এমন একটা ভাব নেয় যে, আগে জানত কিন্তু এখন ভুলে গেছে।

ব্যক্তিগত প্রশ্ন:

ব্যক্তিগত ব্যাপারে ইন্টারভিউবোর্ডে প্রশ্ন করলে সহজে উত্তর দিন। হঠাৎ করে মাথা নিচের দিকে নামিয়ে নেবেন না। চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। যদি প্রশ্ন এমন হয়যে, আপনার ব্যক্তিগত ২টি দোষ বলুন কিংবা গুন বলুন, তাহলে সেগুলো ভেবে রাখুন। যেমন ধরুন- আপনাকে প্রশ্ন করা হলো আপনার একটি দোষ বলুন- আপনি বললেন আমি মিথ্যা কথা পছন্দ করি না। ব্যাপারটা কিন্তু উল্টা হয়ে গেল। আপনার কাছে দোষ জানতে চাইলো আর আপনি গুণ গাইছেন। এমনটা যেন না হয়।

প্রশ্নের উত্তর ভালো দিতে পারলে

আপনাকে যেসব প্রশ্ন করা হয়ে থাকে সেগুলো যদি ভালো উত্তর দিতে পারেন তবে হামবড়া ভাব নেবেন না। মনে রাখবেন বিনয় এমন এক গুন যার অধিকার সর্বত্র। তাই বিনয়ী থাকুন। আরো প্রশ্নের সুযোগ নিন। ইন্টারভিউ বোর্ডে যারা থাকেন তারা যদি নিজেদের মধ্যে কোনো কথা বলতে চায় সে ব্যাপারে শোনার জন্য কান খাড়া করে রাখার চেষ্টা করবেন না। নিজের কোনো ভারী পরিচয় বা আত্মীয় স্বজনের কথা বলে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করবেন না।

ইন্টারভিউ ভালো না হলে-

আমরা সাধারণত প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে মনে করি ইন্টারভিউ ভালো হয়নি। এই অবস্থায় আপনি অনুমতি নিয়ে নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে পারেন অবশ্যই সেটা ২ মিনিটের বেশী নয়। প্রয়োজনে কি বলবেন সেটা আগেই ভেবে রাখুন। আপনার এই আছে সেই আছে আগডুম বাগডুম না বলে আপনি এমন কিছু তথ্য শেয়ার করুন যেখানে বোঝা যাবে কাজটি সম্পর্কে আপনার ধারণা রয়েছে। ‘‘ আমাকে চাকরীটি দেন, আমি খুব ভালোভাবে কাজ করব’’ ভুলেও এ ধরনের কথা বলতে যাবেন না।

কিছু জানার আগ্রহ থাকলে?

ইন্টারভিউতে সবার যে কয়টি বিষয় জানার জন্য প্রচুর কৌতুহল হয় সেটা হলো- চাকরীটা হবে কিনা? এবং বেতন কত? আর কি কি সুযোগসুবিধা আছে? প্রথমত চাকরী হবে কিনা? এটা আপনি আগেই জানতে চাইবেন কেন? চাকরী হলেতো তারাই আপনাকে জানাবে। তাই এ ধরনের উদ্ভট প্রশ্ন ভুলেও করতে যাবেন না। দ্বিতীয়ত- বেতন কত এবং সুযোগ সুবিধা কেমন এগুলো আপনি আগেই জানার চেষ্টা করবেন। যদি আগে জানতে না পারেন তাহলে যখন আপনাকে অফার করবে তখন আপনি জানতে চাইবেন।

ফিরে আসা:

ইন্টারভিউ শেষ আপনাকে আসতে বলল অথবা পরে জানাবে বলল। আপনার হয়তো জানতে ইচ্ছে করছে কবে জানাব? তাই আপনি প্রশ্ন করতে চান? এই প্রশ্নটি না করাই ভালো। তবে যদি আপনার ইন্টারভিউটি খুব উষ্ণ এবং আন্তরিক পরিবেশে হয়ে খাকে এবং আপনাকে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয় তাহলে আপনি বিনয়ের সহিত জানতে চাইতে পারেন যে, কতদিনের মধ্যে জানাবে এবং কতদিন আগে জানাবে। সাবধান এর বেশী আর কিছু নয়। সালাম ও ধন্যবাদ দিয়ে বেরিয়ে আসুন। এমন একটা ভাব নিন চাকরীটা ব্যাপার নয় আপনি একটা ছোট মিটিং করেছেন তাদের সাথে কথা বলে আপনি হ্যাপি। প্রয়োজনে বলুন ‘‘স্যার- কথা বলে ভালো লাগলো।

interview manner2

 

এগুলো আসলে বই পড়ে শেখার বিষয় নয়। এসব ম্যানারের ৫০ ভাগ আপনি শিখতে পারেন আপনার কমনসেন্স থেকে বাকী ৫০ ভাগ অন্য অনেককে দেখে শিখতে পারেন।

Share this to your friend