ওভাবে নয় এভাবে

evabe noi ovabe1
0

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

‘‘ওভাবে নয় এভাবে’’, কথাটা শুনতে কিছুটা বিমূর্ত বা ঘোলাটে শোনাতে পারে। কিন্তু এধরনের কথা আমরা হরদম বলি। তবে আজকের লেখাটা হলো আমাদের বর্তমান কিছু আচরণ নিয়ে যা আমরা যেভাবে বলছি সেভাবে নয়। একই কাজ বা কথা আমরা আরো ভালো ও সুন্দর এমনকি ইতিবাচকভাবে বলতে পারি। সেটা কিভাবে, তা জানতেই এই রচনা-

 

আমার কি দোষ? বৃষ্টি কি আমি এনেছি?

ধরুন আপনি অফিসে দেরী করে আসলেন? বস কারণ জানতে চাইলে- আপনি বৃষ্টির কথা বললেন। কিন্তু তাতে বস খুশি না হয়ে পাল্টা প্রশ্ন করে বলল ‘‘বৃস্টি হলে কি দেরী করে আসতে হবে, আনিস সাহেব?’’ ঠিক সে সময় আপনি উপরের সংলাপ ঝেড়ে দিলেন। তখন বসের মেজাজ ফরটি নাইনতো হবেই। তবে এই কথাটা বলা আপনার কোনোভাবে ঠিক হবে না। আপনি বুঝিয়ে বলতে পারেন। রাস্তা ডুবে গেছে, রাস্তায় গাড়ি কম ইত্যাদি।

আমরা প্রায় সময় এই ভুলটা করি। অনেকে সবসময় করেন। মনে রাখবেন প্রশ্নের বদলে প্রশ্ন নয়। প্রশ্নের বদলে উত্তর দিন। উত্তর দেয়ার পর আপনার কিছু জানার থাকলে আলাদা করে প্রশ্ন করুন।

 

যদি কিছু মনে না করেন তাহলে একটা কথা বলি?

এই কথাটার প্রচুর ব্যবহার হয় প্রতিনিয়ত। সরাসরি কাউকে নেতিবাচক কিছু না বলে এমনটা বলাটাই বেশ ভদ্রতা। কিন্তু আমি মনে করি। যে কথা বললে কোনো মানুষ মনে কষ্ট পাবে সেটা বলতে যাবো কেন? হাঁ সেটা বলা যদি বলা খুব জরুরী হয় তাহলে দু’ভাবে বলতে পারি। এক প্রথমে তার প্রশংসা করতে পারি। তারপর কথাটা পাড়তে পারি। অথবা বলতে পারি আমি জানি আপনি সত্যিটা জানতে চান এবং সেজন্য আপনি কিছু মনে করবেন না। তাই আপনাকে কথাটা বলা।

 

আপনি কি করেন? তোমার বাবা কি করেন?

অনেকে মনে করেন এটা আমাদের একটা সামাজিক সমস্যা? আমরা একটা মানুষের পেশা সম্পর্কে জানতে চেয়ে সমাজে তার স্টাটাস এবং আর্থিক অবস্থা মাপার চেষ্টা করি। তারপর তাকে সেভাবে মূল্যায়ন করি। বিষয়টা মোটেই সভ্য নয়। একজন মানুষ কি করেন? এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তেমনি স্কুলে একটা ছেলের বাবা কি করে? এটাও তাকে সবার সামনে জানতে চাওয়া এক ধরনের অভদ্রতা। একটু ভাবুনতো আপনিও এমনটা করেন নাতো? 

 

 আপনি কোথায় যাবেন?

বাসে উঠলে এটা কমন সংলাপ- আপনি কোথায় নামবেন? পাশের যাত্রীকে এটা জিজ্ঞেস করাই যায়। আমাদের দেশে মোটামোটি এটা জানতে চাওয়া কোন দোষ নয়। বরং এভাবে পাশের লোকটার সাথে ভাব জমানো যায়। কিন্তু উন্নত বিশ্বে পাশের সিটের লোককে বড়জোর এটা জানতে চাওয়া যায়- আপনি কি খুব দূরে যাবেন? 

 

আপনার বয়স কত? আপনি কত টাকা বেতন পান?

আজকাল আমরা অবশ্যই সবাই এটা বুঝি। কাউকে তার বয়স কিংবা বেতন জানতে চাওয়া মানে তার ব্যক্তিগত প্রশ্ন করা যেটা এক ধরনের অভদ্রতা। তাহলে যদি এই বিষয়গুলো নিতান্ত জানা দরকার হয় তাহলে কি করবেন? বয়স না জেনে জন্ম তারিখ জানতে চান। আর বেতনের কথা অন্যভাবে জানার চেষ্টা করুন।

 

 আপনি জানেন না। ঘটনা আসলে কি হয়েছে?

এটা সবার মুখ থেকেই শুনি। আমি যখন কাউকে এই কথা বলি তখন আমি এই কথাই বলছি যে, আপনি অনেক কিছু জানেন না আর সেটা আমি জানি’’ সত্যি বলতে কি ? এটা বাজে ধরনের একটা অভদ্রতা। বলতে পারেন আপনিতো জানেন বা আপনি নিশ্চয় জানেন।

 

এইটুকু কাজ পারেন না, আপনাকে দিয়ে কি হবে?

একজন মানুষকে অসম্মান করা বা তার কাজকে অবমূল্যায়ন করার এটা খুব নিচু একটা প্রক্রিয়া। আপনার উদ্দেশ্য নিশ্চয় কাউকে ছোট কিংবা অপমান করা নয়। আপনার উদ্দেশ্য নিশ্চয় তার কাছ থেকে ভুল ত্রুটিমুক্ত কাজ আদায় করা। তাহলে আপনি নিশ্চয় এটা বলতে পারেন  ‘‘দেখুন সোহেল সাহেব, আপনি কাজটা আরো ভালোভাবে করতে পারবেন সেটা আমি জানি। সূতরাং আমার অনুরোধ আপনি কাজটি করুন। ’’

 

অন্যরা কত ভালো করছে? আর তুমি এসব কি করেছ?

এই কথা শুধু বাবা মা বাচ্চাকে বলে তা নয়। অফিসের বসও অধতনকে বলে থাকেন। এ ধরনের বক্তব্য একজন মানুষকে তার আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় এবং কাজের প্রতি অনীহা তৈরী করে। তাই বলুন। ‘‘অন্যরা পারলে আপনিও পারবেন সূতরাং শুরু করুন চেষ্টা করুন এবং লেগে থাকুন। আপনার উপর আমার ভরসা রয়েছে।’’

 

আপনি নিজে এসব লেখা পড়ুন, এবং অন্যকে পড়তে বলুন। যদি আপনার মনে হয় এই আচরণগুলো আমাদের বদলানো উচিত।

 

Share this to your friend

Leave us a comment